গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙ্গে যায়
Gobhir nishithe ghum bhenge jay
-
গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙ্গে যায়,
কে যেন আমারে ডাকে -
সে কি তুমি, সে কি তুমি?
কার স্মৃতি বুকে পাষাণের মত
ভার হয়ে যেন থাকে,
সে কি তুমি, সে কি তুমি?
কাহার ক্ষুধিত প্রেম যেন হায়
ভিক্ষা চাহিয়া কাঁদিয়া বেড়ায়
কার সকরুণ আঁখি দুটি যেন
রাতের তারার মত
মুখপানে চেয়ে থাকে -
সে কি তুমি, সে কি তুমি?
নিশির বাতাস কাহার হুতাশ
দীরঘ নিশাস সম
ঝড় তোলে এসে অন্তরে মোর,
ওগো দুরন্ত মম
সে কি তুমি, সে কি তুমি?
মহাসাগরের ঢেউয়ের মতন,
বুকে এসে বাজে কাহার রোদন?
পিয়া পিয়া নাম ডাকে
অবিরাম
বনের পাপিয়া পাখি
আমার চম্পা শাখে
সে কি তুমি, সে কি তুমি?
06 November, 2017
গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙ্গে যায়
গভীর রাতে জাগি - Gobhir Raate Jagi
গভীর রাতে জাগি
Gobhir Raate Jagi
-
গভীর রাতে জাগি খুঁজি তোমারে
দূর গগনে প্রিয় তিমির-পারে।
জেগে যবে দেখি বঁধু তুমি নাই কাছে
আঙিনায় ফুটে ফুল ঝরে পড়ে আছে
বাণ-বেঁধা পাখী সম আহত এ প্রাণ মম
লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।
মৌনা নিঝুম ধরা ঘুমায়েছে সবে
এসো প্রিয় এই বেলা বক্ষে নীরবে।
কত কথা কাঁটা হয়ে বুকে আছে বিঁধে
কত আভিমান কত জ্বালা এই হূদে
দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ
ঝরে গেল
কত আশা মরে গেল হাহাকারে।।
24 September, 2017
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় Tumi sundor tai
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
Tumi sundor tai cheye thaki Priyo
-
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
সে কি মোর অপরাধ?
চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী
বলে না তো কিছু চাঁদ।।
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখি ফোটে যবে ফুল
ফুল বলে না তো সে আমার ভুল
মেঘ হেরি’ ঝুরে’ চাতকিনী
মেঘ করে না তো প্রতিবাদ।।
জানে সূর্যেরে পাবে না
তবু অবুঝ সূর্যমুখী
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখে তার
দেবতারে
দেখিয়াই সে যে সুখী।।
হেরিতে তোমার রূপ-মনোহর
পেয়েছি এ আঁখি, ওগো সুন্দর।
মিটিতে দাও হে প্রিয়তম মোর
নয়নের সেই সাধ।।
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় - Tumi sundor tai cheye thaki Priyo
তুমি সুন্দর তাই
Tumi sundor tai
-
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
সে কি মোর অপরাধ?
চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী
বলে না তো কিছু চাঁদ।।
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখি ফোটে যবে ফুল
ফুল বলে না তো সে আমার ভুল
মেঘ হেরি’ ঝুরে’ চাতকিনী
মেঘ করে না তো প্রতিবাদ।।
জানে সূর্যেরে পাবে না
তবু অবুঝ সূর্যমুখী
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখে তার
দেবতারে
দেখিয়াই সে যে সুখী।।
হেরিতে তোমার রূপ-মনোহর
পেয়েছি এ আঁখি, ওগো সুন্দর।
মিটিতে দাও হে প্রিয়তম মোর
নয়নের সেই সাধ।।
তুমি আমার সকালবেলার সুর - Tumi amar sokalbelar sur
তুমি আমার সকালবেলার সুর
Tumi amar sokalbelar sur
-
তুমি আমার সকালবেলার সুর
বিদায় আলোয় উদাস করা
অশ্রুভারাতুর।
ভোরের তারার মতো তোমার
সজল চাওয়ায়
ভালোবাসা চেয়ে সে যে
কান্না পাওয়ায়
রাত্রিশেষের চাঁদ তুমি গো,
বিদায়বিধুর।
তুমি আমার ভোরের ঝরা ফুল
শিশির নাওয়া শুভ্রশুচি
পূজারিণীতুল।
অরুণ তুমি তরুণ তুমি
করুণ তারও চেয়ে
হাসির দেশে তুমি যেন বিষাদ
লোকের মেয়ে
তুমি ইন্দ্রসভার মৌনবীণা
নীরবনিঠুর।।
তরুণ প্রেমিক - Torun premik
তরুণ প্রেমিক
Torun premik
-
তরুণ প্রেমিক, প্রণয় বেদন
জানাও জানাও বে-দিল প্রিয়ায়
ওগো বিজয়ী, নিখিল হূদয়
কর কর জয় মোহন মায়ায়।
নহে ও এক হিয়ার সমান
হাজার কাবা হাজার মস্জিদ
কি হবে তোর কাবার খোঁজে
আশয় খোঁজ তোর হূদয় ছায়ায়।
প্রেমের আলোয় যে দিল্ রোশন
যেথায় থাকুক সমান তাহার
খুদার মস্জিদ মুরত মন্দির
ইশাই দেউল ইহুদখানায়।
অমর তার নাম প্রেমের খাতায়
জ্যোতির লেখায় রবে লেখা
দোজখের ভয় করে না সে
থাকে না সে বেহেস্তের আশায়।।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর - Tora sob joyodhwonoi kor
তোরা সব জয়ধ্বনি কর
Tora sob joyodhwonoi kor
-
তোরা সব জয়ধ্বনি কর
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে
কালবোশেখীর ঝড়
তোরা সব জয়ধ্বনি কর
আসছে এবার অনাগত প্রলয়
নেশায় নৃত্য পাগল
সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক
ভেনে ভাঙলো আগল
মৃত্যুগহন অন্ধকুপে মহাকালের
চন্ডরূপে ধূম্রধূপে
বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে
ভয়ংকর
ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর
তোরা সব জয়ধ্বনি কর
দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা
ভয়াল তাহার নয়নকটায়
দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল
তার ত্রস্ত জটায়
বিন্দু তাহার নয়নজলে
সপ্তমহাসিন্ধু দোলে কপোলতলে
বিশ্বমায়ের আসন তারই বিপুল
বাহুর পর
হাঁকে ঐ জয় প্রলয়ংকর
তোরা সব জয়ধ্বনি কর
মাভৈঃ মাভৈঃ জগ ৎ জুড়ে প্রলয়
এবার ঘনিয়ে আসে
জরায় মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ
লুকানো ঐ বিনাশে
এবার মহানিশার শেষে আসবে
ঊষা অরুণ হেসে তরুণ বেশে
দিগম্বরের জটায় লুটায়
শিশুচাঁদের কর
আলো তার ভরবে এবার ঘর
তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে - Tora dekhe ja Amina mayer kole
তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
Tora dekhe ja Amina mayer kole
-
তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
মধু-পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন উষার কোলে রাঙা রবি দোলে।
কুল মখ্লুকে আজি ধ্বনি ওঠে,
‘কে এল ঐ’
কলেমা শাহাদতের বাণী ঠোঁটে,
‘কে এল ঐ’
খোদার জ্যতিঃ পেশাণীতে ফোটে,
‘কে এল ঐ’
আকাশ গ্রহ তারা পড়ে লুটে,
‘কে এল ঐ’
পড়ে দরুদ ফেরেশ্তা, বেহশ্তে
সব দুয়ার খোলে।
মানুষে মানুষের অধিকার দিল
যে জন
‘এক আল্লাহ্ ছাড়া প্রভু নাই’ -
কহিল যে জন
মানুষের লাগি চির দীন-হীন
বেশ ধরিল যে জন
বাদশাহ-ফকিরে এক সামিল
করিল যে জন
এল ধরায় ধরা দিতে সেই সে নবী
ব্যথিত মানবের ধ্যানের ছবি
(আজি) মাতিল বিশ্ব-নিখিল
মুক্তি কলরোলে।।
তোমারি আঁখির মত - Tomari ankhir moto
তোমারি আঁখির মত
Tomari ankhir moto
-
তোমারি আঁখির মত আকাশের দুটি তারা
চেয়ে থাকে মোর পানে নিশীথে তন্দ্রাহারা।
সে কি তুমি? সে কি তুমি?
ক্ষীণ আঁখিদীপ জ্বালি বাতায়নে
জাগি একা
অসীম অন্ধকারে খুঁজি তব
পথরেখা
সহসা দখিনবায়ে চাঁপাবনে
জাগে সাড়া।
সে কি তুমি? সে কি তুমি?
তব স্মৃতি যদি ভুলি ক্ষণতরে
আনকাজে
কে যেন কাঁদিয়া ওঠে আমার
বুকের মাঝে।
বৈশাখী ঝড়ে রাতে চমকিয়া
উঠি জেগে
বুঝি অশান্ত মম আসিলে ঝড়ের বেগে
ঝড় চলে যায় কেঁদে, ঢালিয়া
শ্রাবণধারা।
সে কি তুমি? সে কি তুমি?
তোমারেই আমি চাহিয়াছি প্রিয় - Tomarei ami chahiachhi priyo
তোমারেই আমি চাহিয়াছি প্রিয়
Tomarei ami chahiachhi priyo
-
তোমারেই আমি চাহিয়াছি
প্রিয় শতরূপে শতবার
জনমে জনমে তাই চলে মোর
অনন্ত অভিসার।
বনে তুমি যবে ছিলে বনফুল
গেয়েছিনু গান আমি বুলবুল
ছিলাম তোমার পূজার থালায়
চন্দন ফুলহার।
তব সংগীতে আমি ছিনু সুর,
নৃত্যে নূপুরছন্দ
আমি ছিনু তব অমরাবতীতে
পারিজাত ফুলগন্ধ।
কত বসন্তে কত বরষায়
খুঁজেছি তোমায় তারায় তারায়
আজিও এসেছি তেমনই আশায়
লয়ে স্মৃতি সম্ভার।।
তিমির বিদারী অলখ বিহারী - Timir bidari alokh bihari
তিমির-বিদারী অলখ-বিহারী
Timir bidari alokh bihari
-
তিমির-বিদারী অলখ-বিহারী
কৃষ্ণ মুরারী আগত ঐ
টুটিয়া আগল নিখিল পাগল
সর্বসহা আজি সর্বজয়ী।।
বহিছে উজান অশ্রু-যমুনায়
হৃদি-বৃন্দাবনে আনন্দ ডাকে,
‘আয়’,
বসুধা যশোদার স্নেহধার
উথলায়
কাল্-রাখাল নাচে থৈ-তা-থৈ।।
বিশ্ব ভরি’ ওঠে স্তব নমো নমঃ
অরির পুরী-মাঝে এলো
অরিন্দম।
ঘিরিয়া দ্বার বৃথা জাগে
প্রহরী জন
বন্ধ কারায় এলো বন্ধ-বিমোচন,
ধরি’ অজানা পথ আসিল অনাগত
জাগিয়া ব্যথাহত ডাকে, মাভৈঃ।।
তিলক দিলে কি শ্যাম - Tilok dile ki Shyam
তিলক দিলে কি শ্যাম
Tilok dile ki Shyam
-
তিলক দিলে কি শ্যাম
ত্রিলোক ভুলাতে?
কে দিল বনমালী বনমালা
গলাতে?
আঁখি যেন ঢলঢল আধফোটা শতদল
কে শিখাল ও চাহনি গোপিনী
ছলিতে?
সৃজন ছন্দে আনন্দে - Srijon chhonde anonde
সৃজন ছন্দে আনন্দে
Srijon chhonde anonde
-
সৃজন ছন্দে আনন্দে নাচো
নটরাজ হে
মহকাল প্রলয় তাল ভোলো ভোলো।
ছড়াক তব জটিল জটা
শিশু-শশীর কিরণ ছটা
উমারে বুকে ধরিয়া সুখে
দোলো দোলো।
মন্দ-স্রোতা মন্দাকিনী
সুরধুনী-তরঙ্গে
সঙ্গীত জাগাও হে তব নৃত্য-বিভঙ্গে।
ধুতরা ফুল খুলিয়া ফেলি
জটাতে পর চম্পা বেলি
শ্মশানে নব জীবন শিব,
জাগিয়ে তোলো।।
সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে - Sure o banir mala diye
সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে
Sure o banir mala diye
-
সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে
তুমি আমারে ছুঁইয়াছিলে।
অনুরাগ-কুমকুম দিলে দেহে মনে
বুকে প্রেম কেন নাহি দিলে?
বাঁশি বাজাইয়া লুকায়ে তুমি
কোথায়?
যে ফুল ফুটালে সে ফুল শুকায়ে যায়
কি যেন হারায়ে প্রাণ করে
হায় হায়
কি যে চেয়েছিলে কেন কেড়ে
নাহি নিলে।
জড়ায়ে ধরিয়া কেন ফিরে গেলে
বল কোন অভিমানে?
কেন জাগে নাকো আর সে
মাধুরী রস আনন্দ প্রাণে?
তোমারে না বুঝে বুঝেছিনু আমি ভুল
এসেছিলে তুমি ফোটাতে প্রেম-মুকুল
কেন আঘাত হানিয়া প্রিয়তম
সেই ভুল নাহি ভাঙাইলে?
সতী হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে - Soti hara udasi Bhoirob knadey
সতী হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে
Soti hara udasi Bhoirob knadey
-
সতী হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে
বিষাণ ত্রিশূল ফেলি গভীর
বিষাদে
জটাজুটে গঙ্গা নিস্তরঙ্গা
রাহু যেন গ্রাসিয়াছে ললাটের
চাঁদে।
দুই করে দেবী-দেহ ধরে বুকে
বাঁধে
রোদনের সুর বাজে প্রণব
নিনাদে
ভক্তের চোখে আজি ভগবান
শঙ্কর
সুন্দরতর হল পড়ি মায়া ফাঁদে।।
সন্ধ্যা গধূলি লগনে - Sondha godhuli logone
সন্ধ্যা গধূলি লগনে
Sondha godhuli logone
-
সন্ধ্যা গধূলি লগনে কে
রাঙিয়া উঠিলে কারে দেখে
হাতের আলতা পড়ে গেল পায়ে
অস্ত-দিগন্ত বনান্ত রাঙায়ে
আঁখিতে লজ্জা অধরে হাসি
কেন অঞ্চলে মালা ফেলিলে ঢেকে।
সখি বলো বঁধুয়ারে নিরজনে - Sokhi bolo bondhuare nirojone
সখি বলো বঁধুয়ারে নিরজনে
Sokhi bolo bondhuare nirojone
-
সখি বলো বঁধুয়ারে নিরজনে
দেখা হলে রাতে ফুলবনে।
কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালি
কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
জেনেছে ফুলমালি গোপনে।
কাঁটারি আড়ালে গোলাপেরি বাগে
ফুটায়েছে কুসুম কপট সোহাগে
সে কুসুম ঘেরা মেহেদির বেড়া
প্রহরী ভোমোরা সে কাননে।
পথেতে চোরকাঁটা সখি তায় বলে দিও
বেঁধেনা বেঁধেনা লো যেন তার উত্তরীয়।
এ বনফুল লাগি না আসে কাঁটা দলি
আপনি যাব আমি বঁধুয়ার কুঞ্জ গলি
বিকাব বিনিমূলে ও চরণে।।
সই ভালো করে বিনোদ বেণী - Soi bhalo kore binod beni
সই, ভালো করে বিনোদ-বেণী
Soi, bhalo kore binod beni
-
সিন্ধু-ভৈরবী / কাহার্বা
-
সই, ভালো করে বিনোদ-বেণী
বাঁধিয়া দে
মোর বঁধু যেন বাঁধা থাকে
বিননী-ফাঁদে।
সই চপল পুরুষ সে, তাই কুরুশ-কাঁটায়
রাখিব খোঁপার সাথে বিঁধিয়া
লো তায়
তাহে রেশমী জাল বিছায়ে দে
ধরিতে চাঁদে।
বাঁধিতে সে বাঁধন হারা বনের হরিণ
জড়ায়ে দে জরীন্ ফিতা মোহন ছাঁদে
প্রথম প্রণয় রাগের মত আল্তা রঙে
রাঙায়ে দে চরণ মোর এমনি ঢঙে
সই পায়ে ধরে বঁধু যেন আমারে সাধে।।
শ্মশানে জাগিছে শ্যামা - Smosane Jagichhe Shyama
শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
Smosane Jagichhe Shyama
-
শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
অন্তিমে সন্তানে নিতে কোলে
জননী শান্তিময়ী বসিয়া আছেন ওই
চিতার আগুণ ঢেকে স্নেহ আঁচলে।
সন্তানে দিতে কোল ছাড়ি সুখ কৈলাস
বরাভয় রূপে মা শ্মশানে করেন বাস
কি ভয় শ্মশানে, শান্তিতে যেখানে
ঘুমাবি জননীর চরণতলে?
জ্বলিয়া মরিলি কে সংসার-জ্বালায়
তাহারে ডাকিছে মা, চলে আয়,
চলে আয়
জীবনে শ্রান্ত ওরে, ঘুম
পাড়াইতে তোরে
কোলে তুলে নেয় মা মরণের ছলে।।
শ্যামা নামের লাগলো আগুন - Shyama namer laglo agun
শ্যামা নামের লাগলো আগুন
Shyama namer laglo agun
-
রাগ - ভূপালী / দাদ্রা
-
শ্যামা নামের লাগলো আগুন
আমার দেহের ধূপকাঠিতে
যত জ্বালি সুবাস তত ছড়িয়ে
পড়ে চারিভিতে।
ভক্তি আমার ধূমের মত উর্দ্ধে
ওঠে অবিরত
শিব-লোকের দেব-দেউলে মা’র
শ্রীচরণ পরশিতে।
অন্তর-লোক শুদ্ধ হল পবিত্র
সেই ধূপ সুবাসে
নীল আকাশে চন্দ্র সম মা’র
হাসিমুখ চিত্তে ভাসে।
সব কিছু মোর পুড়ে কবে চিরতরে
ভস্ম হবে
মা’র ললাটে আঁকব তিলক সেই
ভস্ম বিভূতিতে।।
শূণ্য এ বুকে - Shunyo e buke
শূণ্য এ বুকে
Shunyo e buke
-
শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়
ফিরে আয় ফিরে আয়।
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল
অকালে ঝরিয়া যায়।
তুই নাই বলে ওরে উন্মাদ
পান্ডুর হলো আকাশের চাঁদ
কেঁদে নদী হলো করুণ বিষাদ
ডাকে আয় তীরে আয়।।
আকাশে মেলিয়া শত শত কর
খোঁজে তোরে তরু ওরে সুন্দর
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড়
লুটায় লতা ধূলায়।
তুই ফিরে এলে ওরে চঞ্চল
আবার ফুটিবে বন ফুল দল
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল
তোর চোখের চাওয়ায়।।
শুকনো পাতার নূপুর পায়ে - Shukno patar nupur paye
শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
Shukno patar nupur paye
-
শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
নাচিছে ঘূর্ণী বায়
জল-তরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল
ঢেউ তুলে সে যায়।
দীঘির বুকে শতদল দলি
ঝরায়ে বকুল চাঁপার কলি
চঞ্চল ঝর্ণার জল ছলছলি
মাঠের পথে সে ধায়।
বনফুল আভরণ খুলিয়া ফেলিয়া
আলুথালু এলোকেশ গগনে মেলিয়া
পাগলিনী নেচে যায় হেলিয়া দুলিয়া
ধূলি-ধূসর কায়।
ইরাণী বালিকা যেন মরুচারিণী
পল্লীর প্রান্তর-বন মনোহারিণী
ছুটে আসে সহসা গৈরিক-বরণী
বালুকার উড়নী গায়।।
শাওন রাতে যদি - Shaono rate jodi
শাওন রাতে যদি
Shaono rate jodi
-
শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে
বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে।
ভুলিও স্মৃতি মম, নিশীথ স্বপন সম
আঁচলের গাঁথা মালা ফেলিও পথ পরে।
ঝুরিবে পূবালী বায় গহন দূর বনে
রহিবে চাহি তুমি একেলা বাতায়নে।
বিরহী কুহু-কেকা গাহিবে নীপ শাখে
যমুনা নদী পারে শুনিবে কে যেন ডাকে।
বিজলী দীপশিখা খুঁজিবে
তোমায় প্রিয়া
দুহাতে ঢেকো আঁখি যদি গো
জলে ভরে।।
শাওন আসিল ফিরে - Shaon asilo phire
শাওন আসিল ফিরে
Shaon asilo phire
-
শাওন আসিল ফিরে, সে
ফিরে এল না
বরষা ফুরায়ে গেল, আশা তবু
গেল না।
ধানী রং ঘাঘরীর মেঘ রং
ওড়না
পরিতে আমারে মাগো অনুরোধ
কোরোনা
কাজরী কাজল মেঘ পথ পেল
খুঁজিয়া
সে কি ফেরার পথ পেল না মা
পেল না?
আমার বিদেশীরে খুঁজিতে অনুখন
বুনোহাঁসের পাখার মতো উড়ু উড়ু
করে মন
অথৈ জলে মাগো পথঘাট থৈথৈ
আমার হিয়ার আগুন নিভিল কই?
কদমকেশর বলে কোথা তোর
কিশোর
চম্পাডালে ঝুলে শূন্য ঝুলনা।
সেদিন ছিল কি গোধূলি লগন - Sedin chhilo ki godhuli logon
সেদিন ছিল কি গোধূলি-লগন
Sedin chhilo ki godhuli logon
-
সেদিন ছিল কি গোধূলি-লগন
শুভদৃষ্টির ক্ষণ,
চেয়েছিল মোর নয়নের পানে
যেদিন তব নয়ন?
সেদিন বকুল শাখে কি গো
আঙিনাতে,
ডেকে উঠেছিল কুহু-কেকা
একসাথে?
অধীর নেশায় দুলে উঠেছিল
মনের মহুয়া বন?
হে প্রিয়, সেদিন আকাশ হতে
কি তারা পড়েছিল ঝরে,
যদিন প্রথম ডেকেছিলে তুমি
মোর ডাকনাম ধরে?
(প্রিয়) যেদিন প্রথম ছুঁয়েছিলে
ভালোবেসে,
আকাশে কি বাঁকা চাদ উঠেছিল
হেসে?
শঙ্খ সেদিন বাজায়েছিল কি
পাষাণের নারায়ণ?
সাজিয়াছ যোগী - Sajiyachho jogi
সাজিয়াছ যোগী
Sajiyachho jogi
-
সাজিয়াছ যোগী
বল কার লাগি
তরুণ বিবাগী
হের তব পায়ে
কাঁদিছে লুটায়ে
নিখিলের প্রিয়া
তব প্রেম মাগি
তরুণ বিবাগী
ফাল্গুন কাঁদে
দুয়ারে বিষাদে
খোল দ্বার খোল
যোগী যোগ ভোল
এত গীত হাসি
সব আজি বাসি
উদাসী গো জাগো
নব অনুরাগে
জাগ আনুরাগী
তরুণ বিবাগী
রুমঝুম রুমুঝুম কে বাজায় -Rumjhum rumujhum ke bajay
রুমঝুম রুমুঝুম কে বাজায়
Rumjhum rumujhum ke bajay
-
রুমঝুম রুমুঝুম কে বাজায়,
জল ঝুম্ঝুমি
চমকিয়া জাগে ঘুমন্ত বনভূমি।
দুরন্ত অরণ্যা গিরি-নির্ঝরিণী
রঙ্গে সঙ্গে লয়ে বনের হরিণী
শাখায় শাখায় ঘুম ভাঙ্গায়
ভীরু মুকুলের কপোল চুমি।
কুহু-কুহু কুহরে পাহাড়ী কুহু,
পিয়াল ডালে
পল্লব-বীণা বাজায় ঝিরিঝিরি
সমীরণ, তারি তালে তালে।
সেই জল-ছলছল সুরে জাগিয়া
সাড়া দেয় বন-পারে বাঁশী
রাখালিয়া
পল্লীর প্রান্তর ওঠে শিহরি
বলে - ‘চঞ্চলা কে গো তুমি’?
রঙ্গীলা আপনি রাধা - Rongila apni Radha
রঙ্গীলা আপনি রাধা
Rongila apni Radha
-
রঙ্গীলা আপনি রাধা
তারে হোরীর রং দিও না
ফাগুনের রাণী যে রাই
তারে রঙে রাঙিয়ো না।
রাঙ্গা আবির রাঙ্গা ঠোঁটে
গালে ফাগের লালী ফোটে
রংসায়রে নেয়ে উঠে
অঙ্গে ঝরে রঙের সোনা।
অনুরাগ-রাঙা মনে
রঙের খেলা ক্ষণে ক্ষণে
অন্তরে যার রঙের লীলা
(তারে) বাহিরে রং লাগিয়ো না।।
প্রজাপতি প্রজাপতি - Projapoti Projapoti
প্রজাপতি! প্রজাপতি!
Projapoti! Projapoti!
-
প্রজাপতি! প্রজাপতি! কোথায়
পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?
টুক্টুকে লালনীল ঝিলিমিলি
আঁকাবাঁকা।
তুমি টুলটুলে বনফুলে মধু খাও
মোর বন্ধু হয়ে সেই মধু দাও
দাও পাখা দাও, সোনালী
রূপালী পরাগ মাখা।
মোর মন যেতে চায় না
পাঠশালাতে
প্রজাপতি, তুমি নিয়ে যাও
সাথী করে তোমার সাথে।
তুমি হাওয়ায় নেচে নেচে যাও
আর তোমার সাথে মোর আনন্দ
দাও
এই জামা ভাল লাগে না, দাও
জামা ওই ছবি আঁকা।।
পথহারা পাখি - Pothohara pakhi
পথহারা পাখি
Pothohara pakhi
-
পথহারা পাখি কেঁদে ফিরি একা
আমার জীবনে শুধু আঁধারের লেখা
বাহিরে অন্তরে ঝড় উঠিয়াছে
আশ্রয় যাচি হায় কাহার কাছে!
বুঝি দুখ নিশি মোর
হবে না হবে না ভোর
ফুটিবে না আশার আলোক রেখা।।
পরদেশী মেঘ - Porodeshi megh
পরদেশী মেঘ
Porodeshi megh
-
পরদেশী মেঘ, যাও রে ফিরে
বলিও আমার পরদেশীরে
সে দেশে যবে বাদল ঝরে
কাঁদে না কি প্রাণ একেলা
ঘরে?
বিরহ ব্যথা নাহি কি সেথা
বাজে না বাঁশি নদীর তীরে?
বাদল রাতে ডাকিলে পিয়া
ডাকিলে পিয়া পিয়া পাপিয়া
বেদনায় ভরে ওঠে না কি রে
কাহারো হিয়া?
ফোটে যবে ফুল, ওঠে যবে চাঁদ,
জাগে না সেথা কি প্রাণে কোন সাধ?
দেয় না কেহ গুরুগঞ্জনা
সে দেশে বুঝি কুলবতীরে?
-
রাগপ্রধান / ত্রিতাল বা আদ্ধা কাওয়ালী
পরাণ-প্রিয় - Poran priyo
পরাণ-প্রিয়
Poran priyo
-
রাগ - পিলু, দাদ্রা
-
পরাণ-প্রিয়! কেন এলে
অবেলায়?
শীতল হিমেল বায়ে ফুল ঝরে যায়
সেদিনও সকাল বেলা খেলেছি
কুসুম খেলা
আজি যে কাঁদি একেলা এ ভাঙা মেলায়
কেন এলে অবেলায়?
ক্লান্ত দিবস দূরে কাঁদিছে
পিলুর সুরে
কেন শত পথ ঘুরে আসিলে হেথায়?
কেন এলে অবেলায়?
পদ্মার ঢেউ রে - Poddar dheu re
পদ্মার ঢেউ রে
Poddar dheu re
-
পদ্মার ঢেউ রে –
মোর শূণ্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা,
যা রে।
এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙ্গা পা
আমি হারায়েছি তা’রে।।
মোর পরাণ বঁধু নাই,
পদ্মে তাই মধু নাই– নাই রে–
বাতাস কাঁদে বাইরে–
সে সুগন্ধ নাই রে–
মোর রূপের সরসীতে আনন্দ-
মৌমাছি নাহি ঝঙ্কারে।।
ও পদ্মা রে
ঢেউয়ে তোর ঢেউ ওঠায় যেমন
চাঁদের আলো
মোর বঁধুয়ার রূপ তেমনি
ঝিল্মিল করে কৃষ্ণ-কালো
সে প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশী বাজায়
যদি দেখিস্ তারে–দিস্ এই
পদ্ম তার পায়
বলিস্ কেন বুকে আশার দেয়ালী
জ্বালিয়ে
ফেলে গেল চির-অন্ধকারে।।
ফুলের জলসায় - Phuler Jolsay
ফুলের জলসায়
Phuler Jolsay
-
ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি
ভোরের হাওয়ায় কান্না
পাওয়ায় তব ম্লান ছবি।
যে বীণা তোমার পায়ের কাছে
বুক ভরা সুর লয়ে জাগিয়া আছে
তোমার পরশে ছড়াক হরষে
আকাশে বাতাসে তার সুরের
সুরভি।।
তোমার যে প্রিয়া গেল বিদায়
নিয়া অভিমানে রাতে
গোলাপ হয়ে কাঁদে তাহারই
কামনা উদাস প্রাতে।
ফিরে যে আসবে না ভোলো তাহারে
চাহ তাহার পানে দাঁড়ায় যে দ্বারে
অস্ত চাঁদের বাসনা ভুলাতে
অরুণ অনুরাগে উদিল রবি।।
ফিরিয়া যদি সে আসে - Phiria jodi se ase
ফিরিয়া যদি সে আসে
Phiria jodi se ase
-
ফিরিয়া যদি সে আসে, আমারে
খোঁজে ঝরা গোলাবে
আনিয়া সমাধি পাশে আমার
বিদায় বাণী শোনাবে।
বলিও তারে এখানে এসে, ডাকে
যেন মোর নাম ধরে সে
রবাব যবে কাঁদিবে রমল সুরের
কোমল রেখাবে।
তৃষিত মরুর ধুসর গগন যেমন
হেরে মেঘের স্বপন
তেমনি দারুণ তিয়াসা লয়ে
কাটিল আমার বিফল জীবন
একটি ফোঁটা আঁখি-জল ঝরে
যেন তার হাতের শরাবে।।
23 September, 2017
পাষাণের ভাঙালে ঘুম - Pashaner Bhangale Ghum
পাষাণের ভাঙালে ঘুম
Pashaner Bhangale Ghum
-
পাষাণের ভাঙালে ঘুম
কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়
গলিয়া সুরের তুষার
গীতিনির্ঝর বয়ে যায়।
উদাসী বিবাগী মন
যাচে আজ বাহুর বাঁধন
কত জনমের কাঁদন
ও পায়ে লুটাতে চায়।
ওগো তোমার চরণ ছন্দে মোর
মুঞ্জরিল গানের মুকুল
তোমার বেণীর বন্ধে গো
মরিতে চায় সুরের বকুল।
চমকে ওঠে মোর গগণ
ঐ হরিণ চোখের চাওয়ায়।
ওর নিশীথ সমাধি - Or nishitho somadhi
ওর নিশীথ সমাধি
Or nishitho somadhi
-
দরবারী কানাড়া / ত্রিতাল
-
ওর নিশীথ সমাধি ভাঙিও না।
মরা-ফুলের সাথে ঝরিল যে
ধুলিপথে
সে আর জাগিবে না, তারে
ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার -
আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর
শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুক্নো
মালিকা বক্ষে জড়ায়ে।
যে মরিয়া জুড়ায়েছে -
ঘুমাতে দাও তারে আগিও না।।
অনেক ছিল বলার - Onek chhilo bolar
অনেক ছিল বলার
Onek chhilo bolar
-
অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন
ভালোবাসতে
পথ ছিল গো চলার, যদি দুদিন
আগে আসতে
আজকে মহাসাগর স্রোতে চলেছি
দূর পারের পথে
ঝরা পাতা হারায় যথা, সেই
আঁধারে ভাসতে
যাই সেই আঁধারে ভাসতে।
গহন রাতি ডাকে আমায়, এসে
তুমি আজকে
কাঁদিয়ে গেলে হায় গো আমার
বিদায় বেলার সাঁঝকে
আসতে যদি হে অতিথি, ছিল
যখন শুক্লা তিথি
ফুটতো চাঁপা, সেদিন যদি
চৈতালী চাঁদ হাসতে।।
ওই ঘর ভুলানো সুরে - Oi ghor bhulano surey
ওই ঘর ভুলানো সুরে
Oi ghor bhulano surey
-
ওই ঘর ভুলানো সুরে
কে গান গেয়ে যায় দূরে
তার সুরের সাথে সাথে
মোর মন যেতে চায় উড়ে।
তার সহজ গলার তানে
সে ফুল ফোটাতে জানে
তার সুরে ভাটির টানে
নব জোয়ার আসে ঘুরে।
তার সুরের অনুরাগে
বুকে প্রণয়-বেদন জাগে
বনে ফুলের আগুন লাগে
ফুল সুধায় ওঠে পুরে।
বুঝি সুর সোহাগে ওরই
পায় যৌবন কিশোরী
হিয়া বুঁদ হয়ে গো নেশায়
তার পায়ে পায়ে ঘুরে।।
ওগো প্রিয় তব গান - Ogo priyo tobo gaan
ওগো প্রিয় তব গান
Ogo priyo tobo gaan
-
ওগো প্রিয় তব গান
আকাশ গাঙের জোয়ারে উজান
বাহিয়া যায়।
মোর কথাগুলি কাঁদিছে বুকের
মাঝারে,
পথ খুঁজে নাহি পায়।
ওগো দখিনা বাতাস, ফুলের সুরভি বহ
ওরি সাথে মোর না বলা বাণী লহ।
ওগো মেঘ, তুমি মোর হয়ে গিয়ে কহ
বন্দিনী গিরি-ঝরণা পাষাণতলে
যে কথা কহিতে চায়।
ওরে ও সুরমা, পদ্মা, কর্ণফুলি
তোদের ভাটির স্রোতে
নিয়ে যা আমার না বলা কথাগুলি
ধুয়ে মোর বুক হতে।
ওরে ‘চোখ গেল’ ‘বৌ কথা কও’ পাখি
তোদের কণ্ঠে মোর সুর যাই রাখি।
ওরে মাঠের মুরলি কহিও
তাহারে ডাকি
আমার এ কলি, না-ফোটা বুলি,
ঝরে গেল নিরাশায়।।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে - O mon Romjaner oi Rojar seshe
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
O mon Romjaner oi Rojar seshe
-
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
এলো খুশীর ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে
শোন্ আসমানী তাগিদ।।
তোর সোনা-দানা বালাখানা
সব রাহেলিল্লাহ্।
দে জাকাত মুর্দ্দা মুসলিমের
আজ ভাঙাইতে নিদ্।।
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন
সেই সে ঈদ গাহে।
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম
হয়েছে শহীদ।।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত ও দুশমন
হাত মিলাও হাতে।
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব
নিখিল ইসলামে মুরীদ।।
ঢাল হৃদয়ের তোর তশতরীতে
শির্নী তৌহিদের।
তোর দাওয়াতে কবুল করবে
হজরত হয় মনে উম্মীদ।।
নয়ন ভরা জল গো তোমার - Noyon bhora jol go tomar
নয়ন ভরা জল গো তোমার
Noyon bhora jol go tomar
-
নয়ন ভরা জল গো তোমার
আঁচল ভরা ফুল
ফুল নেব না অশ্রু নেব
ভেবে হই আকুল।।
ফুল যদি নিই তোমার হাতে
জল রবে গো নয়ন পাতে
অশ্রু নিলে ফুটবে না আর
প্রেমের মুকুল।।
মালা যখন গাঁথ তখন
পাওয়ার সাধ যে জাগে
মোর বিরহে কাঁদ যখন
আরও ভালো লাগে।
পেয়ে তোমায় যদি হারাই
দূরে দূরে থাকি গো তাই
ফুল ফোটায়ে যায় গো চলে
চঞ্চল বুলবুল।।
নয়নে নিদ নাহি - Noyone nid nahi
নয়নে নিদ নাহি
Noyone nid nahi
-
নয়নে নিদ নাহি
নিশীথ-প্রহর জাগি একাকিনী
গান গাহি’।
কোথা তুমি কোন দূরে, ফিরিয়া
কি আসিবে না
তোমার সাজানো বনে ফুটিয়া
ঝরিল হেনা
কত মালা গাঁথি, কত আর পথ চাহি।
কত আশা অনুরাগে হূদয়-দেউলে রেখে
পূজিনু তোমারে পাষাণ,
কাঁদিলাম ডেকে ডেকে
এস অভিনামি ফিরে, নিরাশায়
এ তিমিরে
চাঁদের তরণী বাহি’।।
নূরজাহান - Noorjahan
নূরজাহান
Noorjahan
-
নূরজাহান! নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে
ইরানী গুলিস্তান।।
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর-লতা
শিরিঁ ফরহাঁদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম,
সে যে রাজাধিরাজ-
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে
কলঙ্ক লোক-লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ
নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু
প্রেমিকের ইতিহাসে,
দিবে চিরদিন নন্দনলোকচারী
তব সেই কলঙ্ক
সে প্রেমের সম্মান।।
নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে - Nishi nijhum ghum nahi aase
নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে
Nishi nijhum ghum nahi aase
-
বেহাগ / ত্রিতাল
-
নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে,
হে প্রিয়, কোথা তুমি দূর প্রবাসে।
বিহগী ঘুমায় বিহগ-কোলে,
শুকায়েছে ফুল-মালা শ্রান্ত আঁচলে
ঢুলিছে রাতের তারা চাঁদের পাশে।
ফুরায় দিনের কাজ ফুরায় না রাতি,
শিয়রের দীপ হায়, অভিমানে
নিভে যায়
নিভিতে চাহে না নয়নের বাতি।
কহিতে নারি কথা তুলিয়া আঁখি
বিষাদ-মাখা মুখ গুন্ঠনে ঢাকি।
দিন যায় দিন গুণে নিশি যায়
নিরাশে।।